পা পিছলে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য মা হাতি

ছবি: আগামীর সময়
টানা বর্ষণে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ি মাটিতে পা পিছলে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে একটি বন্য মা হাতি।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকায়।
আহত হাতিটিকে বাঁচাতে যৌথভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা।
বন বিভাগ জানিয়েছে, পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটিতে হাতিটির পা পিছলে যায়। এতে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় প্রাণীটি। আঘাতের পর থেকে সেটি আর দাঁড়াতে পারেনি এবং মাটিতে শুয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হাতিটিকে দেখতে পেয়ে খবর দেন বন বিভাগকে। পরে টেকনাফ রেঞ্জের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ব্যবস্থা নেন জরুরি চিকিৎসার।
টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক হাতিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়া গেলে প্রাণীটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেছেন, টানা বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় শুধু মানুষের নয়, বন্য প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি বেড়েছে। আহত মা হাতিটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন বন বিভাগের চিকিৎসা ও পরিচর্যার ওপরই প্রাণীটির সুস্থতা নির্ভর করছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সেটি খুব সামান্য নড়াচড়া করতে পারছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটির পা ও পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
তিনি আরও জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে আসছে। সেখানেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে হাতিটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হবে। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাণীটিকে আবার বনে অবমুক্ত করা হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন হলে তাকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




