আবার অরণ্যে

পূর্ব সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে তাকে।
প্রায় ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আজ রবিবার সকালে সুন্দরবনে ফিরে যাচ্ছে শিকারির ফাঁদে আটকেপড়া বাঘিনী। পূর্ব সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে তাকে। তবে পরিকল্পনা থাকলেও গলায় পরানো হচ্ছে না স্যাটেলাইট রেডিও কলার। এর পরিবর্তে বাঘিনীর চলাফেরা ও আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য বনের আট কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) থেকে সময়মতো স্যাটেলাইট রেডিও কলার সরবরাহ না পাওয়ায় পরিবর্তন করতে হয়েছে পরিকল্পনা। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বাঘিনীকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। পরে ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করে উদ্ধার করা হয় তাকে। এরপর চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর ভাষ্য, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল বাঘিনীর গলায় স্যাটেলাইট রেডিও কলার পরানোর; কিন্তু নানা জটিলতায় সম্ভব হয়নি সেটি। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের। এজন্য আন্ধারমানিক, হাড়বাড়িয়া ও শরকির খাল এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটার জুড়ে ২০টি নির্দিষ্ট পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা। আজ সকালে খুলনার পুনর্বাসনকেন্দ্র থেকে নৌপথে বাঘিনীকে অবমুক্ত করা হবে সুন্দরবনে।




