জাটকা রক্ষায় নদী-সাগরে ৮ মাসের ‘রেড অ্যালার্ট’

সাগরের মোহনা ও উপকূলীয় নদ-নদীতে ঝাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা। ছবি: আগামীর সময়
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন-পরবর্তী পোনা সংরক্ষণে সাগরের মোহনা ও উপকূলীয় নদ-নদীতে আজ থেকে শুরু হয়েছে টানা আট মাসের জাটকা আহরণ নিষেধাজ্ঞা। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ (জাটকা) ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, কেনা-বেচা, মজুদ ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর আগুনমুখা, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীসহ বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন জলসীমায় এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন।
গত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পর ডিম থেকে ফোটা ইলিশের পোনা নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতেই এ দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মৎস্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা আহরণ করলে অপরাধীকে এক থেকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদী ও সাগরের প্রবেশমুখ এবং মোহনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ ও ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল জব্দ করে ধ্বংস করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা আট মাসের নিষেধাজ্ঞায় উপকূলের প্রান্তিক জেলেদের মধ্যে সাময়িক আর্থিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্যমতে, রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮০৯ জন। কর্মহীন জেলেদের সহায়তায় পটুয়াখালী জেলার নিবন্ধিত ৭৯ হাজার জেলেকে চার মাসের বিশেষ মানবিক সহায়তার আওতায় প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, খাদ্যসহায়তার চাল বিতরণে যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জাটকা রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ পেলে জেলেরা আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন। এ জন্য নদী ও সাগরে নিষিদ্ধ বেহুন্দি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




