তীব্র গরম
দাউদকান্দিতে তালের শাঁসের কদর বেড়েছে

গরমের তীব্রতায় দাউদকান্দির বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে তালের শাঁসের চাহিদা।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন হাট-বাজারে তালের শাঁসের চাহিদা বেড়েছে। ঈদুল আজহার পর থেকে উপজেলার বড় ও ছোট বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের দেখা যাচ্ছে শত শত তালের শাঁস বিক্রি করতে।
স্থানীয়রা জানান, মে মাসের শেষ থেকে জুনের শুরু হলেও তাপমাত্রার তীব্রতা কমেনি। গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই তালের শাঁস কিনছেন। এতে যেমন ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি মৌসুমি এই ব্যবসা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
দাউদকান্দি বাজারের তালের শাঁস বিক্রেতা শাহ আলম বলেছেন, ঈদের পর থেকে গরম আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে তালের শাঁসের বিক্রিও বেড়েছে।
গৌরীপুর বাজারের বিক্রেতা নূরে আলম উল্লেখ করেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক ভ্রাম্যমাণ ক্রেতা তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন। এতে তারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।
তালের শাঁসের ক্রেতা স্বপন মিয়া বলেন, ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গরম কমানোর জন্য তিনি ও তার বন্ধুরা তালের শাঁস খাচ্ছেন।
চক্রতলা বাজারের ক্রেতা রহিম মিয়া মন্তব্য করেন, তালের শাঁস গরমে প্রশান্তি দেয়। পাশাপাশি এটি ফরমালিনমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর একটি মৌসুমি ফল।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. হাবিবুর রহমান জানান, তালের শাঁস শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, বি ও সিসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা এবং রুচি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
ইলিয়টগঞ্জ বাজারের বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেছেন, তিনি কুমিল্লার হোমনা, দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করেন। প্রতিটি তাল পাইকারিতে ১৫ থেকে ২০ টাকায় কিনে খুচরা বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করেন।
গৌরীপুর বাজারের বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেছেন, তিনি মেঘনা ও হোমনা উপজেলা থেকে তাল সংগ্রহ করেন। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালের শাঁসের চাহিদাও বেড়েছে।
দাউদকান্দি বাজারে তালের শাঁস কিনতে আসা এনামুল হক বলেছেন, তীব্র গরমে তালের শাঁস শরীরকে কিছুটা শীতল রাখে। পাশাপাশি এটি বেশ সুস্বাদু একটি ফল।





