পার্বতীপুর
দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় হামলা, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দফায় দফায় হামলা ও মারধরের ঘটনায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মচারীদের ওপর দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার আরজি দেবীপুর আলিম মাদ্রাসা ও শিয়ালকোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিভিন্ন অজুহাতে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত শুক্রবার হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরজি দেবীপুর আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক ও শিয়ালকোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শাহাজাদা মন্ডল মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত একদল দাঙ্গাবাজ লোক বিভিন্ন অজুহাত ও হুজুগ তৈরি করে গত ২৯ আগস্ট তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে মোজাম্মেল হক গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ তুলে নিতে মোজাম্মেল হক ও সাক্ষীদের ওপর আবার হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেবে ঢাবি প্রশাসন
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিয়ালকোট বাজারে ধাওয়া করে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোজাম্মেল হক, সোহেল রানা, শাহাজাদা মণ্ডল ও রাশেদুল ইসলামকে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানালেন, হামলাকারীরা তাকে চিরতরে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে তার বা হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে। এ ছাড়া লাঠির আঘাতে তার ডান পা ও কোমরের হাড়ে গুরুতর আঘাত হয়েছে। রাশেদুল ইসলামের দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং সোহেল রানার চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মোজাম্মেল হক দাবি করেন, গত ২৯ আগস্টের হামলার ঘটনায় পুলিশ দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিলে সর্বশেষ হামলার ঘটনা এবং তাদের এমন পরিণতি হতো না। এজন্য পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক ভূমিকাকেও দায়ী করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাবড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানালেন, মাদ্রাসার দখলে থাকা কিছু জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগের বিষয়ে হামলাকারী পক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পার্বতীপুর থানাধীন ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাক বিল্লাহ জানালেন, গত ২৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাটি সাধারণ মারামারি হওয়ায় মামলা হিসেবে না নিয়ে জিডি করা হয়। প্রসিকিউশন রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ জানালেন, অভিযোগটি সাধারণ মারামারির ঘটনা হলেও বাদীর লিখিত বর্ণনায় চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এ কারণে তাকে অভিযোগ সংশোধন করে নতুন ভাবে জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি এখনো অভিযোগটি সংশোধন করে জমা দেননি।
সংঘর্ষের বিষয়ে ওসি আব্দুল ওয়াদুদ জানালেন, আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সুস্থ হয়ে থানায় এলে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




