মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা

পাবনার সাঁথিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের পাথাইল হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান ও জামায়াত সমর্থকদের দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই পাথাইল হাট এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগে চলতি বছরের মার্চে বিএনপি সমর্থকদের দোকানপাট ভাঙচুর ও জমি থেকে জোর করে পেঁয়াজ লুটের অভিযোগে জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। ওই মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে রাসেল ও তার পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ছোট পাথাইল ঈদগাহ মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও প্যান্ডেল সাজানোকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জামায়াত সমর্থকরা তাদের সিদ্ধান্ত না মানলে ঈদের নামাজ আদায় করতে না দেওয়ার হুমকি দেয়।
পাথইল গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম জানালেন, ঈদের নামাজ একসঙ্গে আদায় নিয়ে কথাকাটাকাটির পর সবাই বাড়ি ফিরে যায়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোকছেদ প্রামাণিকের ভাষ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে জোরপূর্বক মাইকের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার সামনেই নজরুল নামের এক ব্যক্তি মাইকে ঘোষণা দেয়, ‘সবাই লাঠি-ফালা নিয়ে বাইর হ’। এরপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক এলাকায় হামলা চালায়।
গ্রামের বাসিন্দা আসাদুর জানালেন, হামলাকারীরা রফিক ও শফিক নামের দুই ভাইয়ের বাড়িঘর এবং রাসেল নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে ভাঙচুর চালায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রাসেল অভিযোগ করেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় হযরত মাস্টারের নেতৃত্বে একদল লোক তার খইল, ভুসি, সার ও কীটনাশকের দোকানে হামলা চালায়। পরে তারা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। দোকান থেকে বিকাশের নগদ ২ লাখ টাকা, ছয় ক্যান দুধ ও বিভিন্ন কীটনাশক লুট করা হয়। তার দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মর্জিনা খাতুন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং ধর্ষণের হুমকি দেয়।
ইউনিয়ন যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেন দাবি করেন, এর আগেও হযরত মাস্টার, নজরুল, কালু ও ইউনুসের নেতৃত্বে তার ১১ বিঘা জমি দখল করে পেঁয়াজ লুট করা হয়েছিল। ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এমপি নাজিবুর রহমানের নির্দেশে এসব ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগী রাসেল বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে সাঁথিয়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হযরত আলী মাস্টার, শাকিল, রবিউল ইসলাম কালু ও মেহেদী হাসান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে।
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার দুপুরে লুট হওয়া দোকানের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মন্তব্য করেন, বিষয়টি তিনি প্রথম সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনেছেন। তার ভাষ্য, অপরাধমূলক ঘটনাকে দলীয় রঙ দেওয়া ঠিক নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরে নিয়মিত মামলা নেওয়া হয়। বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।







