লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন সাতক্ষীরায়

আহাজারি করছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা - আগামীর সময়
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী যুবকের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। প্রায় ২৭ দিন অপেক্ষার পর আজ রবিবার সকালে তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। পরে বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতরা হলেন— সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম (২০)।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ দুটি এসে পৌঁছায়। পরে সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। রাতেই সড়কপথে মরদেহ সাতক্ষীরার উদ্দেশে নিয়ে আসা হয়।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে শফিকুল ইসলামের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা। একই সময়ে নাহিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতেও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে ভিড় জমে।
স্থানীয়রা জানালেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদুল। কিন্তু জীবনের স্বপ্ন পূরণের আগেই যুদ্ধের ভয়াবহতায় তাদের জীবন থেমে যায়।
জানা যায়, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ের জিবদিন এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই বাংলাদেশি। ওই সময় আহত হন আরও এক বাংলাদেশি প্রবাসী।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, খুলনার সহকারী পরিচালক মো. খালেদুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, বিমানবন্দরে নিহতদের পরিবারের হাতে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানালেন, বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা সুবিধা হিসাবে ১০ লাখ টাকা করে পাবে নিহতের পরিবার। প্রত্যেক পরিবার মোট ১৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে।




