গৌরীপুরে ৩ দিনে কুকুরের কামড়ে আহত অর্ধশতাধিক, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স— সংগৃহীত
তিন দিনে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত ১৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা পাগলা কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও গণহারে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
গৌরীপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত কুকুর অসুস্থ বা পাগল না হলে মানুষকে কামড়ায় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শুধু মানুষ নয়, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল থেকে রবিবার পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শাহীন, মাহমুদ, মামুন, অন্তর, আব্দুর রাজ্জাক, নার্গিস, সাজু মিয়া, মোর্শেদা, আলমগীরসহ আরও অনেকে। তবে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ায় আরও অনেক আক্রান্তের তথ্য রেজিস্টারে ওঠেনি। হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী গাভীশিমুল গ্রামে তিনজন কুকুরের কামড়ে আহত হলেও তাদের নাম রেজিস্টারে নেই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, ময়মনসিংহ এসকে হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন গৌরীপুর পৌরসভা, মইলাকান্দা, মাওহা, বোকাইনগর, অচিন্তপুর, গৌরীপুর সদর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রাজেন্দ্র দেবনাথ জানান, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই বাড়ি ফিরে গেছেন। একটি ফাইলে চার থেকে পাঁচ ডোজ ভ্যাকসিন থাকে। চারজন রোগী একসঙ্গে হলে তাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, নয়তো পাঁচ ঘণ্টা পর তা নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দুই থেকে তিন দিন বিলম্ব হলেও সমস্যা হওয়ার তেমন আশঙ্কা থাকে না।
গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মামুনুল করিম বললেন, ‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঘুম থেকে উঠে বাসার সামনে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর দৌড়ে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পায়ে কামড়ে ধরে। কুকুরটা আমার পায়ের মাংস ছিঁড়ে নিয়ে গেছে।’
একইভাবে পশ্চিম দাপুনিয়া মহল্লার অন্তর মিয়ার পায়েও কুকুর কামড়ে গুরুতর জখম করেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। তারা দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে পাগলা কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং গণহারে র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন চালুর দাবি জানিয়েছেন।
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর ভাট জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ র্যাবিস ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। রবিবার বিকাল পর্যন্ত ১৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কুকুর কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি, অন্যথায় জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে।’ আক্রান্তদের দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শও দেন তিনি।
গৌরীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন বললেন, ‘শুধু মানুষ নয়, ইদানিং পশু-পাখিদেরও কুকুর কামড়াচ্ছে। সাধারণত কুকুর অসুস্থ হলেই মানুষকে কামড়ায়। তবে পশু-পাখিদের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন, তাদের আক্রমণ করে খাওয়ার জন্য। কুকুরের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার জন্যই এমন হচ্ছে।’
‘কুকুর নিধনের চেয়ে বর্তমানে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে তাদের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন’— যোগ করেন তিনি।





