দুই বছর ধরে বন্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ৮ হাজার মানুষ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অন্তত ৮ হাজার মানুষ। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) বিউটি খাতুন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ক্লিনিকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার সময় ক্লিনিকটি খোলা হয়। বাকি সময় তালাবদ্ধ থাকায় সেবা নিতে আসা মানুষদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিউটি খাতুন চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলেও অনুপস্থিত।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত তারাকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার ওপর নির্ভরশীল তারাকান্দি, চরপাড়া, কান্দারপাড়া, পোগলদিঘা ও রামচন্দ্রখালীসহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। ক্লিনিকটিতে নারীদের গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবা, শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর ধরে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। এ সময় সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন তারাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা লিজা আক্তার (৩০)।
তিনি বললেন, “আগে আমরা এখান থেকে বিনামূল্যে ঔষধ পেতাম। প্রায় দুই বৎসর যাবৎ ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় আমরা ঔষধ পাচ্ছি না। আমরা দ্রুত ক্লিনিকটি খোলা দেখতে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল খালেক (৬০) অভিযোগ করে বললেন, “দীর্ঘ দিন যাবৎ ক্লিনিকটি বন্ধ। আমরা ঠিকমত ঔষধপত্র পাই না। হে মেয়াপুনাই কুনু গেছেগা তা কবার পামুনা। হে খালি ট্যাহা পয়সা খাইয়া কাগরে কাগরে বলে চাকরি দেয়।”
আরেক বাসিন্দা সোলায়মান (৫১) মন্তব্য করেন, “টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে মানুষের কাছ থেকে পলায়ছে। মানুষরে চাকরি দেবার কথা কয়ে অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দিছে। আমরা কোন ঔষধপত্র পাচ্ছি না। আমাদের কওয়ার মানুষ নাই। দ্রুত ক্লিনিকটি আমরা খোলা দেখতে চাই।”
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার না থাকলে সেখানে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের সপ্তাহে ছয় দিন দায়িত্ব পালনের কথা। তবে তারাকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকে সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বিউটি খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলছেন “প্রায় এক বছর ধরে তার বেতন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলছেন, “স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকটি চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






