সীমান্ত পেরিয়ে বিয়ানীবাজারে যেভাবে ঢুকছে ইয়াবা!

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক বহনকারী ও খুচরা কারবারিদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদক পাচার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক অভিযানে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ এক সপ্তাহে পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রতিবেশী জকিগঞ্জ সীমান্ত ব্যবহার করে ভারত থেকে ইয়াবা দেশে প্রবেশ করছে। পরে বিয়ানীবাজারকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কিছু চালান স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ইয়াবার জন্য সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করেন কারবারিরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা ইয়াবাকে ‘বিচি’, ‘বোতাম’ ও ‘মাল’ নামে উল্লেখ করেন। ফলে প্রকাশ্যে যোগাযোগ হলেও অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মাদক পাচার ঠেকাতে বিয়ানীবাজারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেফতার করে। এর আগে মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে আরও তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৈরাগীবাজার এলাকার আব্দুল্লাহপুর ত্রিমুখী পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটকরা হলেন জকিগঞ্জ উপজেলার জামবর গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৫০), মাথিউরা খলাগ্রামের আব্দুল বাছিত (৩৮) এবং বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার রাঙ্গাউটি গ্রামের জিবার হোসেন (৪৫)।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদক কারবারিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক সময় গভীর রাতেও চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট থেকে কসকনকপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দিনের বেলায় জেলে সেজে নদীতে মাছ ধরার সময়, আবার কখনও রাতে নদীপথে ভাসিয়ে বা নৌকা ও সাঁতারের মাধ্যমে সীমান্ত পার করে ইয়াবা আনা হয়। পরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে মজুত রেখে সুযোগ বুঝে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহের পর বড় ব্যবসায়ীদের এজেন্টরা সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে রওনা হন। সন্দেহ এড়াতে অনেক সময় তারা পোশাকও পরিবর্তন করেন। ফলে গোপন তথ্য থাকলেও তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বিয়ানীবাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত দুই ডজন মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের চলমান অভিযান প্রশংসনীয় হলেও মাদক পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে বড় কারবারি ও তাদের নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই বিয়ানীবাজারকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা কমবে।






