আরেকটি সিনেমা হল হারিয়ে যাচ্ছে

একসময় প্রেক্ষাগৃহের জন্য পরিচিত নরসিংদীতে আরেকটি সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে থাকা মাধবদীর ৪৬ বছরের পুরোনো ‘মমতা’ সিনেমাহল ও এর জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ।
চলতি সপ্তাহে হলটির প্রধান ফটকে বিক্রির বিজ্ঞাপন টানানো হয়েছে। নরসিংদীতে বর্তমানে টিকে থাকা হাতে গোনা কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহের একটি ছিল ‘মমতা’। তবে গত কয়েক বছর ধরে দর্শকসংকটের কারণে হলটি নিয়মিত লোকসানের মুখে পড়ে। বিশেষ করে গত দুই ঈদে ব্যবসা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
১৯৭৯ সালে সফর আলী ভূঁইয়া ‘মমতা’ সিনেমাহল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ৪৬ বছরের পুরোনো এই প্রেক্ষাগৃহের সরাসরি পরিচালনা প্রায় এক দশক আগে বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে হলটি পরিচালনার চেষ্টা করলেও কেউ লাভের মুখ দেখেননি। বরং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ঈদে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরও লোকসান গুনতে হয়েছে পরিচালনাকারীদের। নতুন কোনো ভাড়াটিয়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিক্রির বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে সফর আলী ভূঁইয়ার ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন জানান, চার দিন আগে বিজ্ঞাপনটি টানানো হয়েছে। উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া গেলে সিনেমাহলসহ পুরো ৪৮ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেওয়া হবে।
নরসিংদীতে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার ধারাও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের ‘রুনা’ সিনেমাহল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে একই উপজেলায় থাকা ‘পিপাসা’ সিনেমাহলও কার্যক্রম বন্ধ করে। পরে ২০২২ সালের পর থেকে ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় ৩৯ বছরের পুরোনো ‘রুনা’ হলটিও টিকে থাকতে পারেনি।
এর আগে ২০২৪ সালে রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার দর্শকপ্রিয় ‘ছন্দা’ সিনেমাহল একটি মাদ্রাসার কাছে বিক্রি করা হয়।
একসময় নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০টির বেশি সিনেমা হল চালু ছিল।





