ঘর বিক্রি করে কিনেছিলেন কম্পিউটার, এখন কোটিপতি

অভাবের কারণে একসময় ঠিকমতো খাবার জুটত না। পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। সেই দারিদ্র্য থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মায়ের দুটি ছাগল ও বাবার একটি টিনের ঘর বিক্রির টাকা দিয়ে পুরনো কম্পিউটার কিনেছিলেন রায়হান মিয়া। সেই কম্পিউটারেই শুরু হয় তার ফ্রিল্যান্সিংয়ের পথচলা। এখন তার দাবি, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করেছেন ৪ কোটি টাকার বেশি। গড়েছেন তিনতলা বাড়ি, কিনেছেন জমি ও গাড়ি। পাশাপাশি বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গ্রামের তরুণদের।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের পারেরহাট গ্রামের রায়হানের বয়স এখন ৩৩ বছর। ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। বাবা অলিয়ার রহমানের পক্ষে সংসার চালিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো কঠিন ছিল। অভাবের মধ্যেই ২০০৭ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিভাগে। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন; অনেক দিন খাবারও জুটত না।
ফ্রিল্যান্সিং শেখার পর কম্পিউটার কেনার টাকা ছিল না তার। ২০১১ সালে ডিপ্লোমা শেষ করে বাড়ি ফিরলে দুটি ছাগল বিক্রি করে ৬ হাজার টাকা দেন মা ময়না বেগম। বাবা বিক্রি করেন তিনটি টিনের ঘরের একটি, পান ২০ হাজার টাকা। সেই ২৬ হাজার টাকায় পুরনো কম্পিউটার কেনেন রায়হান।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক গ্রাহকের ৪৮০ ডলারের কাজ পান তিনি। সময়মতো কাজ শেষ করায় অতিরিক্ত ১০০ ডলারও পান তিনি। রায়হান জানিয়েছেন, বর্তমানে আপওয়ার্কে তার মোট আয় ৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মাসে আয় প্রায় ৫ লাখ টাকা।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি মাছের চাষ ও গরুর খামার গড়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, খামারে ৩৫টি গাভী রয়েছে, প্রতিদিন দুধ উৎপাদিত হয় প্রায় ২০০ লিটার। গ্রামে মাদ্রাসা ও এতিমখানাও প্রতিষ্ঠা করেছেন।
২০১৮ সালে সাদিয়া আইটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে তরুণদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন রায়হান। তার প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েকজন তরুণ মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের একজন রিপন হোসেন বলেছেন, রায়হানের প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে অবদানের জন্য ২০২১ সালে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৩ সালে রাইজিং ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রায়হান।
তিনি বলেছেন, নিজের সাফল্যের পাশাপাশি আরও তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করে তোলাই এখন তার লক্ষ্য।



