ডাক্তার সাগরের বাড়ি যেন এক টুকরো ‘জার্মানি’

নাটোরে জার্মানির পতাকার আদলে সাজিয়েছেন ডাক্তার সাগর কস্তার বাড়ি— আগামীর সময়
চিকিৎসক সাগর কস্তা। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানির চিকিৎসক তিনি। দেশটির প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের বাড়ি জার্মানি পতাকার আদলে রাঙিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে করা হয়েছে এ আয়োজন।
ঘরের দেয়াল থেকে শুরু করে দরজা, জানালা এমনকি টিনের চালেও আঁকা হয়েছে জার্মানির পতাকা। হলুদ, লাল আর কালো রং দিয়ে আঁকা নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিটি ঘরের দেয়াল। বাদ যায়নি বাড়িতে লাগানো গাছপালাও। প্রত্যেক গাছ রাঙিয়ে তোলা হয়েছে জার্মানি পতাকার আদলে। বাড়ির সামনের বাগানকে বানানো হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ। চারপাশে জার্মানি পতাকা আর ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে টাঙানো হয়েছে খেলোয়ারদের ছবি। আলোকসজ্জা করা হয়েছে চারিদিক। দেখে মনে হবে নাটোরের বুকে যেন এক টুকরো জার্মানি। সেই সাজ-সজ্জা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন আসছেন ভক্ত ও সমর্থকরা। অনেকে ছবি তুলছেন, অনেকে ভিডিও ধারণ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এ বাড়িটি এখন সবার কাছে ‘জার্মানি বাড়ি’ নামে পরিচিত পেয়েছে।
সাগর কস্তার বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর এলাকায়। জার্মানিতে থাকলেও নিজ গ্রামের বাড়িতে ফুটিয়ে তুলেছেন জার্মানি পতাকা। জার্মানি দেশকে ভালোবেসে পুরো বাড়িকে নান্দনিক পতাকায় রূপ দিয়েছেন। জার্মানির পতাকায় পুরো বাড়িকে সাঁজাতে কোনো কমতি রাখেননি তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির প্রতিটি ঘরে আঁকা হয়েছে জার্মানি পতাকা। বাড়ির চারপাশে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। তার মাঝে মাঝে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও রাখা হয়েছে। বাগানের প্রতিটি গাছে হলুদ, লাল ও কালো রঙে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জার্মানি পতাকা। রঙে রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিটি চিত্র। পুরো বাড়িতে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। রাতের আঁধারে আলোর ঝলমল করে পুরো বাড়িতে।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী জানালেন, জার্মানির প্রতি ভালবাসায় পুরো বাড়ির আঙ্গিনাকে জার্মানির পতাকায় রূপ দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জার কোনো কমতি নেই বাড়িতে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এ আয়োজন করেছেন জার্মানি প্রবাসী সাগর নামে এক ভক্ত। জার্মানির পতাকার আদলে আঁকা হয়েছে প্রতিটি ঘর। সৌন্দর্য দেখতে অনেক মানুষ আসছেন এ বাড়িতে। দেখে মনে হবে নাটোরের বুকে এক খণ্ড জার্মানি।
সাগরের মা কানন কস্তা জানালেন, আমার ছেলে জার্মানিতে থাকে। সে জার্মানি দেশকে অনেক ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। সেই থেকে এ আয়োজন করা। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ছেলের ভালবাসা প্রকাশে আমরা সবাই মিলে এ আয়োজন করিছি। পুরো বাড়ি জার্মানি পতাকায় রাঙিয়েছি। এ কারণে আমাদের বাড়িকে সবাই ‘জার্মানি বাড়ি’ হিসেবে চিনে। আমার সন্তানের জন্য সবাই প্রার্থনা করবেন, সে যেন জার্মানিতে ভালো থাকে। সবাইকে আনন্দ উপভোগ করতে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।







