চশমা পরা পাখি শ্বেতাক্ষী

সংগৃহীত ছবি
‘চট্রগ্রাম হাজারিখিল এলাকায় দোয়েল, কাঠশালিক, হলদে বউ, বড় বসন্তবাউরি, তিলা ঘুঘু, লেজ নাচুনে, টুনটুনিসহ অনেক পাখির ছবি তুলেছি। কিন্তু শ্বেতাক্ষী বা বাবুনাই সত্যিই আমার মন কেড়েছে। চোখে চশমাপরা ছোট্ট সুন্দর একটি পাখি। অনেকগুলো পাখির মধ্যে ছটফটে স্বভাবের এ পাখিটিই ছিল সবচেয়ে সুন্দর’— কথাগুলো বলছিলেন কবি-সাহিত্যিক ও ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার রানা মাসুদ।
ছোট্ট, সুন্দর ও মায়াবী পাখি শ্বেতাক্ষী। শ্বেত-চোখ পরিবারের এই পাখিটি চশমা পাখি বা চশমা টুনি নামেও পরিচিত। এরা ছোট ছোট দলে চারণ করে, অমৃত এবং ছোট পোকামাকড় খায়। এদের স্বতন্ত্র চোখের চারদিক ঘিরে সাদা বলয় এবং সামগ্রিক হলুদ বর্ণের উপরের অংশ দ্বারা সহজেই শনাক্ত করা যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে উন্মুক্ত অরণ্যে বসবাসকারী পাখি। ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও ওমান, ইরান, আফগানিস্তান, চীন, মিয়ানমার প্রভৃতি দেশে এদের দেখা যায়।
সম্প্রতি চট্রগ্রামের হাজারিখিল এলাকায় এ পাখিটির ছবি তুলেছেন রংপুরের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার রানা মাসুদ। তিনি জানান, পাখিটা খুব চঞ্চল। সঠিক ফোকাস করে এদের ছবি তোলা খুব কঠিন, এদের ছবি তুলতে হয় ধৈর্য নিয়ে।
শ্বেতাক্ষী এ দেশের অন্যতম ছোট পাখি। সবচেয়ে ছোট পাখি ফুলঝুরির পরই এটার স্থান। মাত্র ১০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৯ গ্রাম ওজন। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও পিঠ হলুদাভ-সবুজ। ডানা ও লেজ কালচে। গলা, বুকের উপরাংশ ও লেজের তলা উজ্জ্বল হলুদ। বুক ও পেট সাদা। চোখের কোনায় কালচে দাগ। চোখ বাদামি-হলুদ। ঠোঁট কালচে ও নিচের ঠোঁটের গোড়া বাদামি। পা, পায়ের পাতা ও নখ ধূসর-বাদামি।
এটি পুরোপুরি বৃক্ষচারী পাখি, গাছের শাখায়, পাতায় ও ফুলে লাফিয়ে লাফিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। কখনো কখনো উল্টো হয়ে ডালে ঝুলে ফুলের মধু পান করে বা ফল খায়। কীটপতঙ্গ, ফুলের রস, পাকা ফল ও বীজ তাদের প্রিয় খাদ্য। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে এবং ফুল-ফলের পরাগায়ন করে প্রকৃতিকে সজীব রাখে।
অপরূপ রূপের অধিকারী পাখি শ্বেতাক্ষী বা বাবুনাই স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম। মূলত প্রজননের সময় এরা সুরেলা কণ্ঠে গান গায়। দীর্ঘসুরে গান গাইতে পারে না। বড়জোর ৮-১০ সেকেন্ড দম আটকে রাখতে পারে। ‘সিসি.. টিসির..’ শব্দে ডাকাডাকি করে। এপ্রিল থেকে জুন এদের প্রজনন সময়। এ সময় গাছের সরু শাখায় ঘন পাতার আঁড়ালে সরু শিকড়, মাকড়সার জাল দিয়ে গোলাকার ঝুলন্ত বাসা বানায় শ্বেতাক্ষী।
বাসা বাঁধতে এরা তিন-চার দিন সময় নেয়। বাসা তৈরি হয়ে গেলে স্ত্রী পাখি ডিম পাড়ে বড়জোর দু-তিনটি, রঙ ফ্যাকাশে নীল। ৯ থেকে ১১ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। বাংলাদেশের আর কোনো পাখির ডিম এত অল্প সময়ে ফুটতে দেখা যায় না। ছানারা প্রায় ১০ দিনে উড়তে শেখে, স্বাবলম্বী হতে সময় নেয় ৩০-৩৫ দিন।




