কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে অচল মহাসড়ক

কালিয়াকৈরে শ্রমিকরা একটি ট্রাকের কাচে ঢিল মারেন। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে আজও উত্তাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এলাকা। আজ সোমবার সকাল থেকে উপজেলার কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভাঙচুর করা হয় অর্ধশতাধিক যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসন।
বিক্ষোভের সময় পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় অন্তত ৫০টি যানবাহনের কাচ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি দোকানেও হামলা চালানো হয়। তবে দোকানগুলোতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মাঠে নামলে শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় মুখোমুখি অবস্থান ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও মাঠে আছেন। গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশের তৎপরতায় বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবে থেমে থেমে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা আবারও সড়কে অবস্থান নিচ্ছেন।
ওসি আরও জানালেন, পুলিশ একদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে অন্যদিকে শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন। সকালের দিকে পরিস্থিতি বেশি উত্তপ্ত ছিল এবং মহাসড়কে শ্রমিকদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর ঘোষণা না আসায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন।




