রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল
নিয়োগ পেয়েছেন ১৪ চিকিৎসক, যোগ দিয়েছেন ৮ জন

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন— সংগৃহীত
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসক অনুপস্থিতি ও সেবার ঘাটতি নিয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ১৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮ জন কর্মস্থলে যোগদান করলেও বাকি ৬ জন এখনো করেননি। পাশাপাশি একজন নারী চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থেকে অন্যত্র প্র্যাকটিস করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে সাত দিনের মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে এ সতর্কবার্তা দেন। এর আগে প্রায় দেড় ঘণ্টা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে দরিদ্র রোগীরা নিজ এলাকার কাছেই স্বল্প খরচে ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। তিনি বলেছেন, আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ মারা যাক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে।’
হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বললেন, ‘রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জন্য একটি সমন্বিত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান প্রয়োজন। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং হাসপাতালের মর্গে ফ্রিজার সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।’
চিকিৎসক সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা হয়নি। বর্তমান সরকার সেই ঘাটতি পূরণে কাজ করছে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হবে।’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রদর্শিত ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট বাস্তবে চালু না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শুধু আইসিইউ নয়, ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসংক্রান্ত সভা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান। বাজেটে ডায়ালাইসিস সেবার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ এবং রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।





