গঙ্গাচড়া
কালভার্টের সংযোগ সড়কে ধস, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী-পথচারী

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলমবিদিতর ইউনিয়নের কুতুপাড়া থেকে তুলশীরহাট সড়কের একটি অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কালভার্টের সংযোগস্থলের এই গর্তের কারণে সড়কটি কালভার্ট থেকে বিচ্ছিন্নের পথে। এতে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, তুলশীরহাট এলাকার কালভার্টের সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে গেছে। সড়কের পাশে মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি আনুমানিক ৮-১০ ফুট দীর্ঘ ও ৪-৫ ফুট প্রশস্ত। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের মাটিও সরে গেছে। কালভার্টের প্রায় ২০ গজের মধ্যে বিদ্যালয়টির অবস্থান। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও ছোট যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আতারুল হক বললেন, প্রায় এক মাস ধরে সড়কটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত মেরামত না করলে গর্ত আরও বড় হয়ে যেতে পারে।
বৃদ্ধা অভিজাত খাতুন বললেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বাজার, স্কুলসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় হাঁটতেও কষ্ট হয়। বয়স্ক মানুষের জন্য দুর্ভোগ আরও বেশি।
তুলশীরহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ বলল, স্কুলে যাওয়ার সময় এই জায়গাটি পার হতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম রাজু বললেন, বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান বললেন, সড়কটির এই সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার আগামীর সময়কে বললেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ দিয়ে প্রশাসক ও সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে বিপরীত পাশে নতুন করে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ভেঙে গিয়ে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।






