জালিয়াতির অভিযোগে আব্দুল গণি কলেজের সভাপতি বরখাস্ত, দায়িত্বে ইউএনও

শাহিনুর রহমানকে মাস্টার্সের সনদ জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আব্দুল গণি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. শাহিনুর রহমানকে মাস্টার্সের সনদ জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে তার দাখিল করা সনদের আইনগত বৈধতা না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কলেজটির সভাপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।
সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
আজ রবিবার (১৯ জুলাই) বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জাল মাস্টার্স সনদ ব্যবহার করে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ লাভের অভিযোগ ওঠে শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর গত বছরের ২১ জুলাই বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের জন্য ইউজিসি পাঠান।
চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ইউজিসি তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহিনুর রহমান দাখিল করা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা’র মাস্টার্স সনদটি সঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সনদের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। ইউজিসির এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সভাপতির পদ থেকে বরখাস্ত করে এবং কলেজটির সভাপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, এর আগেও আব্দুল গণি কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে জনবল নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় শাহিনুর রহমান এক মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন।
এ বিষয়ে বাঘার ইউএনও শাম্মী আক্তার জানালেন, তার জাল সনদের বিষয়ে স্থানীয় কিছু লোক অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আবেদন করি। আর তার মাস্টার্সের সনদটি ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা’র। পরে এটি যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) দায়িত্ব দেয়া হয়।
‘ইউজিসির তদন্তের আলোকে তার জাল সনদের বিষয়টি প্রমাণ হয়। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ থেকে বরখাস্তের একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠিতে সভাপতির দায়িত্ব আমাকে (ইউএনও) দেওয়া হয়েছে’— যোগ করেন ইউএনও।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ রয়েছে। চিঠিতে মেয়াদ পর্যন্ত ইউএনও-কে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব আমি পালন করছি— উল্লেখ করেন শাম্মী আক্তার।
আব্দুল গণি কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, গত বছর মার্চের দিকে আমাকে না জানিয়েই নিয়োগ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে কলেজের ৮টি পদে কর্মচারী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করে। পরে তারাই মাস্টার্সের সনদ জালের অভিযোগ তুলে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করে। এরপর তার সনদ জাল সেটি প্রমাণ হয়।
জানতে চাইলে বরখাস্তকৃত সভাপতি শাহিনুর রহমান পলাশ বললেন, মূলত তাদের টার্গেট ছিল আমাকে অপসারণ করা। মাস্টার্সের সনদ জালের বিষয়টি ভুয়া। আমার বাবা এই কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু তিনি কখনোই এই কলেজের সভাপতির দায়িত্ব নেননি। কিন্তু কলেজটিতে ব্যাপক অনিয়ম ছিল। এজন্য দায়িত্ব নিয়েছিলাম। কিন্তু একের পর এক ষড়যন্ত্র করে আমাকে অপসারণ করা হয়েছে।






