জাল সনদে চাকরি নেওয়া সেই ৭৩ শিক্ষকের এমপিও বন্ধের নির্দেশ
- ফেরত দিতে হবে সাড়ে ৫ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
জাল সনদে চাকরি নেওয়া ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া স্কুল-কলেজের ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে বেতন ভাতা হিসেবে নেওয়া সাড়ে ৫ কোটি টাকাও ফেরত দিতে হবে এই শিক্ষক-কর্মচারীদের।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ মে ‘বনপাড়া স্কুলে ৭৬ শিক্ষকের ৭৩ জনই ‘ভুয়া’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে আগামীর সময়। এর তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ চেয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল তলব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বেতন ভাতা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বনপাড়া স্কুলে ঘটেছে নজিরবিহীন জালিয়াতি। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনেরই শিক্ষাগত ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল ধরা পড়েছে তদন্তে। এরমধ্যে কলেজে ৬১ জনের সবাই এবং স্কুল শাখার ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনই সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি করছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, কলেজের অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পারিবারিক পুনর্বাসন কেন্দ্র বানিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে, বোন, বোনের জামাই, শ্যালকের স্ত্রী, চাচাতো ভাইবোন এবং এমনকি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। শুধু তা-ই নয়, অধ্যক্ষ ইমদাদ চাকরিতে ঢাকা কলেজের যে স্নাতক সনদ ব্যবহার করেছেন সেটিও অন্য এক শিক্ষার্থীর। এ ছাড়া তার মাস্টার্স সনদটি ‘আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি’ নামের একটি অস্তিত্বহীন ও অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের।
২০১৪ সালে কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পরও ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আগের নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বেতন ও ভাতা নিয়মিত তুলেছেন। এই ভুয়া শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে, যা ফেরত আনার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তদন্ত করে দুটি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।


