কোরবানির চামড়া সংগ্রহে প্রস্তুত ট্যানারি, লক্ষ্যমাত্রা ৭০ লাখ

ছবি: আগামীর সময়
সাভারের বিসিক শিল্পনগরীর ট্যানারিপল্লীতে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে ট্যানারি মালিকরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হতে পারে। এর মধ্যে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহৃত লবণ ও কেমিক্যালের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হরিণধারা এলাকায় ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। পর্যাপ্ত লবণ ও কেমিক্যাল মজুদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমে থাকা পুরনো বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে, যাতে নতুন চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করা যায়।
তরল বর্জ্য শোধনের জন্য সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) পরিষ্কার ও সংস্কার করে সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকে ট্যানারিগুলোতে পশুর চামড়া আসা শুরু হবে। সে জন্য মৌসুমি শ্রমিকদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এবিসি ট্যানারির মালিক ইমাম হোসেন জানান, ট্যানারিগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী চামড়া কেনা হবে। তবে অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঈদকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চামড়া কেনার পর দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোরবানির পর ধাপে ধাপে ট্যানারিগুলোতে চামড়া আসবে এবং মালিকরা সেগুলো ক্রয় করবেন।
ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ জানান, এ বছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তার প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ চামড়া ট্যানারি মালিকরা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। সাধারণত ঈদে কয়েক গুণ বেশি চাপ তৈরি হয়। সে কারণে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সিইটিপিকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ট্যানারি মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।






