কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ৫ অভিযানে আটক ২০৪২
- দুই টিমের চার নেতাসহ গ্রেপ্তার ৬৩৩
- গ্যাং কালচার নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: পুলিশ সুপার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসা কুমিল্লার কিশোর গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানা এলাকায় পাঁচটি অভিযান চালিয়ে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত ১০ দিনে ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে ‘ভয়ংকর’ হয়ে ওঠা দুটি কিশোর গ্যাংয়ের চার নেতাসহ ৬৩৩ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্যাং কালচার নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। ছাড় দেওয়া হবে না গডফাদারদেরও।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা ও ডিবি পুলিশ গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এসব অভিযান, যা চলে গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত। গতকাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সম্প্রতি কুমিল্লা মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণির কিশোরকে মাদক সেবন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মোটরসাইকেল মহড়া থেকে শুরু করে খুনের মতো নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। এদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষও। সবশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিমের খুন হলে নতুন করে আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। এরপরই সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়।
পাঁচটি বড় অভিযানে আটক করা হয় ২ হাজার ৪২ জনকে। তাদের মধ্যে ৬৩৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বাকি ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ও কুমিল্লা থেকে জেলার সবচেয়ে আলোচিত কিশোর গ্যাং— ‘টিম-র’ এবং ‘ক্রাইম সেটআপ’-এ নেতৃত্ব দেওয়া চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্যাংয়ের মূল চালিকাশক্তি ইমরান হোসেন রতন (১৯)। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। একই গ্যাংয়ের নেতা সাইফুল ইসলামের (২০) বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টি মামলা। আরেক গ্রুপ ক্রাইম সেটআপের নেতা মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বিরের (২৪) বিরুদ্ধে রয়েছে একটি মামলা, রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকারের (২৪) বিরুদ্ধেও রয়েছে একটি।
কুমিল্লা নগরীর যেসব স্থানে কিশোর বয়সী ‘বখাটেদের’ উৎপাত রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এসব অভিযানে অংশ নিচ্ছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। আটক কিশোরদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মুচলেকা দিয়ে ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আগামী সময়কে বললেন, ‘সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিতকারী কোনো গ্যাং বা গডফাদারকেও ছাড় দেওয়া হবে না। এ সাঁড়াশি অভিযান জেলা থেকে কিশোর গ্যাং কালচার সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও থাকছে কঠোর মনিটরিং।’
সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।



