পশুর নদে কয়লাবোঝাই ডুবো জাহাজের হদিস মেলেনি দুদিনেও

ছবি: আগামীর সময়
দুই দিনেও অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি সুন্দরবনের পশুর নদে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ১২০০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজটির।
আজ বুধবার বন বিভাগ ও কয়লার মালিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে পরিদর্শন করেও জাহাজটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান খুঁজে পাননি। সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় উদ্ধার অভিযানও শুরু হয়নি এখনো।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে কয়লা বা তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন মেলেনি। জাহাজটি মূল নৌচ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
গত সোমবার রাত ৯টার দিকে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় দুর্ঘটনায় ডুবে যায় এমভি ফুলবাড়ী নামের কার্গো জাহাজটি। জাহাজে থাকা নয়জন স্টাফ সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণহানি ঘটেনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. সালাহ উদ্দিন কবির জানান, ডুবে যাওয়া জাহাজটি নদী থেকে অপসারণের জন্য মালিকপক্ষকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে চিঠি দিয়েছে বন্দরের হারবার বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস জানান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় এবং পরিদর্শনের সময় জোয়ার থাকায় পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা যায়নি। আশপাশে কয়লা বা তেলের কোনো আস্তরণও দেখা যায়নি। তবে কয়লা ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করছে বন বিভাগ।
এদিকে দুর্ঘটনার শিকার কার্গো জাহাজের মাস্টার বাদী হয়ে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জিডি রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কার্গো মালিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানিয়া শিপিং লাইন্সের প্রতিনিধি ইব্রাহিম ব্যাপারী জানান, জাহাজটিতে ধাক্কা দেওয়া তেলবাহী ট্যাংকারের মালিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।




