বিলবোর্ড দৃশ্যমান করতে গাছ ‘অদৃশ্য’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শামুকসার এলাকায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লাগানো একাধিক গাছ কাটার ঘটনায় মামলা করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পাশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ড দৃশ্যমান করতেই কেটে ফেলা হয়েছে গাছগুলো। তবে বিলবোর্ডের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অস্বীকার করেছেন এই অভিযোগ। সওজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শামুকসার এলাকায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ২২ জুন সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে সরেজমিন পরিদর্শন করেন সওজের কর্মকর্তারা। পরে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় করা হয় মামলা। মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের হেডলাইটের আলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোপণ করা হয়েছিল গাছগুলো। যার মধ্যে ছিল হৈমন্তী, কুর্চি, রাধাচূড়া, কাঞ্চন, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বকুল, পলাশ, করবী, কেসিয়া ও জারুল।
গতকাল শনিবার ঘটনাস্থলে গেলে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তাদের মধ্যে আল আমিন ও মীর হোসেন অভিযোগ করেন, মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি সিমেন্ট কোম্পানির বিলবোর্ড দীর্ঘদিন ধরে ছিল গাছের আড়ালে। বিলবোর্ডটি দৃশ্যমান করতেই কেটে ফেলা হয়েছে গাছগুলো।
তবে বিলবোর্ডটির তত্ত্বাবধানে থাকা শহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বললেন, ‘একটি মহল পূর্বশত্রুতার জেরে আমাকে ফাঁসানোর জন্য রাতে কেটে ফেলেছে গাছগুলো। আমি এক মাস ধরে বিলবোর্ড দেখভালের দায়িত্বে নেই।’ কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, উপসহকারী প্রকৌশলী পলাশ চাকমার কাছ থেকে খবর পেয়ে ২২ জুন সকালে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতাও পান। সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসানের ভাষ্য, সরকারি সম্পদ নষ্টের ঘটনায় থানায় মামলা করেছি। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আনা হবে আইনের আওতায়। যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বললেন, ‘মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে গুরুত্বের সঙ্গে।’




