রংপুরে চার খুনের তদন্ত নিয়ে জামায়াত সেক্রেটারির উদ্বেগ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরে চার খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর নগরের শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘একটি শিক্ষিত, ভদ্র পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হলো। অথচ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে গোয়েন্দা সংস্থার পেছনে। বিগত দিনেও অনেক নিরীহ মানুষকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তুলে এনে ক্রসফায়ারে দিয়েছে। অথচ এমন হত্যাকাণ্ড ঘটল, আজও এর সঠিক ক্লু বের করা গেল না। গোয়েন্দা সংস্থা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমের কারও কথায় মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়াশা না কাটায় আমাদের উদ্বেগের বিষয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দিয়ে প্রকৃত তথ্য জাতিকে জানাবার মতো কিছু উদ্ঘাটন করতে পেরেছে বলে গণমাধ্যম বলতে পারেনি।’
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, সহানুভূতি ও শোক জ্ঞাপন করছি। অবিলম্বে প্রশাসনকে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ছয় মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এ সময়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, জনদুর্ভোগেরও শেষ নেই। উত্তরবঙ্গে সারের সংকট চলছে, বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং চরমে উঠেছে। গ্যাস ও জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। এসব কিছুর দায় সরকারের বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বে যারা এসেছেন, তারা দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে পারেন নাই। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের পদায়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বিএনপি দলীয় লোকজনকে পদায়ন করেছে। আমরা এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।’
দলীয় এমপিদের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকে। আমাকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১ হাজার ৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে।’ বিএনপির পরাজিত নেতাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন চালাতে গিয়ে এমন শাসন করা হচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত এমপিরা দায়িত্ব পালনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিরা কোনো নির্দিষ্ট আসনের এমপি নন। সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী জনগণের দেখাশোনা, উন্নয়ন ও বরাদ্দ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচিত এমপির। বর্তমান সরকার অতীতের সব রেওয়াজ ভঙ্গ করে দলীয় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন আসন তদারকির জন্য ভাগ করে দিয়েছে। এটি কি বেআইনি কাজ নয়?’
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে এসে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে রায় দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করছেন জানিয়ে আগামী দিনে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সামসুল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







