কাঁঠালিয়ায় ফসলি জমিতে ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা

ছবি: আগামীর সময়
পরিবেশগত কোনো অনুমোদন ছাড়াই ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে কাঠ পুড়িয়ে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে কয়লা। চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের তফসেরের খেয়াঘাটের পশ্চিমপাড় থেকে উত্তর দিকে বাকার খালের পাশে চলছে এ কার্যক্রম। এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন আশপাশের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৫০টি চুল্লি স্থাপন করে নিয়মিত কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার তালুকদার জানালেন, কাঠ পুড়িয়ে বাণিজ্যিক উপায়ে কয়লা উৎপাদনের ফলে পাশের এলাকার জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে শিশু, বৃদ্ধ এবং বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। চুল্লি থেকে নির্গত অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড এবং কালো ধোঁয়া পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
এ ছাড়াও চুল্লির কাঠের চাহিদা মেটাতে স্থানীয়ভাবে গাছ চুরির প্রবণতা বাড়ছে। ছোট শিশুরা বাগান থেকে কাঠ কেটে এনে চুল্লির মালিকদের কাছে বিক্রি করায় তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছে সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উৎপাদিত এই কয়লা শুধু স্থানীয়পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পাশের জেলা পিরোজপুরের পাড়েরহাটে লোহা দিয়ে দা, কুড়াল, কোদাল ও খোন্তা ইত্যাদি তৈরির কাজে নিয়োজিত কামারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। কামাররা সারা বছর এ কয়লা ব্যবহার করায় লাভজনক এই বাণিজ্যের লোভে চক্রটি রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মালিকদের একজন রবিউল ইসলাম মোবাইল ফোনে দাবি করলেন, ওই ব্যবসায় তিনজনের মালিকানা রয়েছে। এখানে চুল্লির সংখ্যা ২৩টি। তিনি বর্তমানে বরিশালে আছেন এবং এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আঞ্জুমান নেছা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কাঁঠালিয়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কোনো ধরনের পরিবেশগত অনুমোদন নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।
কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মকবুল হোসেন বললেন, এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুতই এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।



