সিলেট বোর্ডে ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। ছবি: আগামীর সময়
এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ১ হাজার ২০৪ শিক্ষার্থী। এই বোর্ডে পাসের হার গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র ২৯ হাজার ২১৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৫২ হাজার ৫৪০ জন। বাকিরা অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী। এবারের ফলাফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। গত বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন। এবার পাসের হার কমেছে ০ দশমিক ৯৬ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩৯৮ জন।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেট জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। জেলার ১৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩১ হাজার ২১৫ জন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার ৭৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ হাজার ৮৭০ জন, মৌলভীবাজার জেলার ৫৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ হাজার ৭৩৯ জন এবং হবিগঞ্জ জেলার ৫৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজার ৯২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ জন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাসে গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার তুলনায় ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল ১৩ হাজার ৪৮২ জন। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও ফলাফলে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার মান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়া এবং দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলাফল সিলেট শিক্ষা বোর্ডের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




