ইংরেজিতে বেশি ফেল, যশোর বোর্ডে ফল বিপর্যয়

ফলাফল ঘোষণা করেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। ছবি: আগামীর সময়
যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ও জিপিএ-৫— উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেয়েরা।
আজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মতিন।
তিনি জানিয়েছেন, এই বোর্ডে ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
কারণ হিসেবে তিনি জানান, অনেক কলেজে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক নেই। অন্য শিক্ষকরা এই ক্লাস নিয়ে থাকেন। এ কারণে ইংরেজি ফলাফল খারাপ হয়েছে।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৪৩ জনকে। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৮৭০ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৫৮ জন। ছাত্রীদের জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ, বিপরীতে ছাত্রদের ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
পাসের হারেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ২১ হাজার ৫০২ জন। তাদের পাসের হার ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা ১১ দশমিক ০৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার প্রায় ৭০ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার প্রায় ৩৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে মোট ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৩১০ জন।
যশোর বোর্ডে ১৬টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।শতভাগ পাস করেছে তিনটি কলেজে।
ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।



