এইচএসসির ফল
নবীনগরে দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী। ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক চিত্র। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ হলেও এই উপজেলায় পাসের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বোর্ডের গড় পাসের হারের তুলনায় নবীনগরে পাসের হার ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছর নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৭৮১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬৫৮ জন। ফেল করেছে ১ হাজার ১২৩ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশইপাস করতে পারেনি।
কলেজভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিটঘর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজ ছাড়া নবীনগরের অন্য কোনো কলেজ বোর্ডের গড় পাসের হার অতিক্রম করতে পারেনি।
উপজেলায় পাসের হারের দিক থেকে বিটঘর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজের ফলাফল তুলনামূলক ভালো। এ কলেজে ১২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
নবীনগর সরকারি কলেজে ৪২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৮৩ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ।
ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজে ৩৭৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫৪ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। এক সময় এ কলেজ থেকে উপজেলায় সর্বোচ্চসংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনের নজির থাকলেও এবারের ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজে ১৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
নবীনগর মহিলা কলেজে ১৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৪ জন। পাসের হার ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৯ জন। পাসের হার ৩১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
কাইতলা আলীমউদ্দিন জুবাইদা ডিগ্রি কলেজে ৮২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২১ জন। পাসের হার ২৫ দশমকি ৬১ শতাংশ।
উপজেলার সর্বনিম্ন পাসের হার সলিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে। এ কলেজে ৩০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৭৩ জন। পাসের হার ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এ ছাড়া জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
এবার নবীনগর উপজেলায় মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নবীনগর সরকারি কলেজ থেকে ৩, বিটঘর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজ থেকে ৩, নবীনগর মহিলা কলেজ থেকে ২, সলিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে ১ এবং ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজ থেকে একজন জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।
এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনকে একটি আলোচিত বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে আগের মতো অনিয়মের সুযোগ না পাওয়া এবং নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারার বিষয়টিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এসব বক্তব্য জনমতনির্ভর। প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রশাসনের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোয় কঠোর নজরদারি, নকলমুক্ত পরিবেশ এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটবে। সাময়িকভাবে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও মানসম্মত শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
সামগ্রিকভাবে নবীনগরের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। কেন অধিকাংশ কলেজে বোর্ডের গড় পাসের হার অর্জিত হয়নি, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং তা কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখন সেটিই বড় প্রশ্ন




