সাতছড়ির বনাঞ্চলে তীর-ধনুকে বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনাঞ্চলে আবারও বন্যপ্রাণী শিকারিদের তৎপরতা বেড়েছে বলে ওঠেছে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন রেঞ্জের শাহপুর ও জগদীশপুর বিট, তেলমাছড়া বনাঞ্চল এবং সাতছড়ি সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারে রয়েছে সক্রিয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন চন্ডীছড়া চা বাগান, শাহাজীবাজার রাবার বাগান, শাহপুর ও তেলমাছড়া বনাঞ্চলে শিকারি চক্রের সদস্যরা তীর-ধনুক নিয়ে প্রবেশ করে বন্য শুকর, মায়া হরিণ, বনমোরগসহ শিকার করছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এতে আহত প্রাণীরা অনেক সময় জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘ যন্ত্রণার পর যাচ্ছে মারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আহত বন্যপ্রাণী উদ্ধারে বা চিকিৎসায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠছে।
মঙ্গলবার বিএনপির মাধবপুর উপজেলা শাখার মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুল আবদাল শাহ (লিটন) সাতছড়ি এলাকার চন্ডীছড়া চা বাগানে গিয়ে একটি শিকারি দলের ভিডিও ধারণ করেন। জানা যায়, তিনি কৌশলে ওই দলে মিশে ধারণ করেন ভিডিওটি।
পরে ভিডিওটি তিনি তার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করলেও জনস্বার্থ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম বিবেচনায় পরে তা মুছে ফেলেন।
তিনি বললেন, ‘বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি দলীয়ভাবেও এ বিষয়ে নেওয়া হবে কার্যকর উদ্যোগ।’
পাখিপ্রেমী সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবী শাহ আলম হৃদয় বলছিলেন, ‘এ এলাকায় বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার হচ্ছে নিয়মিত। একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শিকার বন্ধ হচ্ছে না।’
হবিগঞ্জ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাবরীনা ছায়ীদা শিমু বলেছেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। কিন্তু কিছু চা শ্রমিক শিকার বন্ধে রাজি হয়নি। তারা বলেছে, শিকার না করলে খাব কী। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে মামলা ‘
তিনি আরও জানালেন, জনবল ও যানবাহনের অভাবে টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে শিকারিরা সুযোগ নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনী ব্যবস্থা।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, চা বাগানে বন্যপ্রাণী শিকারের বিষয়টি নজরে এসেছে তাদের। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্তের।’




