হলে স্কুলছাত্রের মরদেহ, অধ্যক্ষসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মেহেদী হাসান
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন ওই ছাত্রের বাবা জিয়াউদ্দিন জিয়া।
একই প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির সাত শিক্ষার্থীকেও আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আসামির তালিকায় আছেন অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৯ থেকে ১০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন জিয়াউদ্দিন।
আগামীর সময়কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী।
বাদীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৪) ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। তার মরদেহ গত মঙ্গলবার বিকালে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি তাকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে মেহেদীর বাবা জিয়াউদ্দিনকে জানানো হয়, তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ এবং দ্রুত বিদ্যালয়ে যেতে হবে। সে সময় তিনি ঢাকায় থাকায় তার স্ত্রী, ভাই, ভাগ্নে ও মেয়ে স্কুলে যান।
সেখানে শিক্ষকদের কাছ থেকে জানতে পারেন, মেহেদীকে চাটখিল সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে মেহেদীকে স্বজনরা মৃত অবস্থায় পান।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মেহেদী আবাসিক হলে থাকত। হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা তাকেসহ অন্য কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মেহেদীর পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে এক শিক্ষার্থীর আইফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেদীসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। মেহেদী বিষয়টি লিখিতভাবে অধ্যক্ষকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ দেওয়ার কারণে তাকে আবারও নির্যাতন করা হয়।
ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে চাটখিল থানা পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।





