স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেল স্বামী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মাস সাতেক আগের কথা। পরিবারের বাধায় প্রিয় মানুষের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন তরুণী। নতুন ঘর বেঁধেছিলেন প্রেমিকের সঙ্গেই। কিন্তু সেই ঘরে খুব বেশিদিন থাকেনি সুখ। অবশেষে ফিরলেন তরুণী, তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে।
তরুণীর মরদেহ হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যান স্বামী মো. মারুফ। তারপর পুলিশের মাধ্যমে খোঁজ পায় স্বজনেরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা ক্তার কাশফিকে নিয়ে আসেন তার স্বামী। তরুণীকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখেই পালিয়ে যান মারুফ। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।
নিহত কাশফি আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। পরিবারের অমতে গত ডিসেম্বর মাসে বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মারুফকে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী বলেন, ‘ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল মৃত অবস্থায়। সে-সময় ওর গলায় ছিল একটি মোটা দাগ। পরে লাশ রেখেই পালিয়ে যায় তার স্বামী।’
মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাশফির ওপর চালানো হতো নির্যাতন। বৃহস্পতিবার তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বড় বোন ঝুমুর আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে এসেছি। দেখি, পড়ে আছে আমার বোনের লাশ। আমার বোনকে মেরে হাসপাতালে ফেলে গেছে ওই মারুফ। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই আমরা।’
আদরের ছোট মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা শাহীনূর আক্তার। তিনি বলেন, ‘ছোট মেয়েটা আমার খুব আদরের ছিল। বিয়ের পরও ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। স্বামীকে ছাড়া কখনো ভাত পর্যন্ত মুখে তুলত না মেয়েটা। অথচ সেই স্বামীই কিনা তাকে এভাবে কেড়ে নিল?’
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী। প্রতিবেদন পাওয়ার পর নেওয়া হবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।




