ভিভাটেক ২০২৬
প্যারিসে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক মহাসমাবেশ

‘ভিভাটেক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একাংশ
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হয়েছে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ প্রদর্শনী ‘ভিভাটেক ২০২৬’।
বুধবার (১৭ জুন) প্যারিস এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাই প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করা হয় চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজনের। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রদর্শনী।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের দশম বর্ষপূর্তি সংস্করণে থাকবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার দর্শনার্থী ও ৩ হাজার ৬০০ বিনিয়োগকারী। এছাড়াও থাকবে ১৪ হাজার স্টার্টআপ ও ৪ হাজার অংশীদার প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা তো থাকছেনই।
প্রদর্শনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের মতো বিষয়গুলো পাচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর দেওয়া হচ্ছে গুরুত্ব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, বিলাসপণ্য প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ-এর প্রধান নির্বাহী বার্নার্ড আর্নো, ভিভাটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মরিস লেভি, ফ্রান্সের অর্থনীতি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ববিষয়ক মন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনী আলোচনায় মহাকাশভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন জেফ বেজোস। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে মহাকাশ খাত। মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও সৃষ্টি করবে।
বার্নার্ড আর্নো বলেন, ব্যবসা ও শিল্পখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয় ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এবারের আসরে জার্মানিকে বিশেষ অতিথি দেশ বা ‘গেস্ট কান্ট্রি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে ইউরোপীয় প্রযুক্তি সহযোগিতা ও উদ্ভাবনভিত্তিক অংশীদারত্ব।
প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি গবেষকরাও। তাদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি চিকিৎসা, জীববিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের গবেষণা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভিভাটেক ২০২৬ শুধু নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এটি।




