আগামীর সময়ে সংবাদের পর ধরা পড়ছে বিদ্যুৎ চুরি

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জ শহরের বাণিজ্যিক এলাকার জলযোগ মিষ্টান্ন ভান্ডারে ১১ হাজার ৯২৮ ইউনিট বিদ্যুৎ চুরির প্রমাণ পেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। মিটারের বডি সিল কেটে টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩২ মাস ধরে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে দোকানটির মালিক শ্যামল রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পিডিবি।
গত সোমবার শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিষ্টির দোকানটির বিদ্যুৎ মিটার পরীক্ষা করে এ অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। গত ১৭ অক্টোবর দৈনিক আগামীর সময়ে ‘বছরে দশ কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর হবিগঞ্জে এটি পিডিবির প্রথম অভিযান।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় দোকানে দুটি ফ্রিজ, পাঁচটি টিউবলাইট, চারটি ফ্যান ও একটি মোটর চালু ছিল। এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মোট লোড ছিল প্রায় ২ কিলোওয়াট। মিটারের সার্ভার পরীক্ষা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মিটারের বডি সিল কেটে টেম্পারিং করা হয়েছে।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ওই ৩২ মাসে দোকানটিতে প্রায় ১৫ হাজার ৩৬০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। তবে এ সময়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩২ ইউনিটের। ফলে ১১ হাজার ৯২৮ ইউনিট বিদ্যুতের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে পিডিবি।
অভিযানের সময় মিটারটি জব্দ করে দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী অমিত বিশ্বাস বলেন, বকেয়া বিল, ভ্যাট ও জরিমানাসহ মোট ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫১৪ টাকা দাবি করে বিদ্যুৎ আইনে মামলা করা হয়েছে।
এদিকে পিডিবির এই অভিযান নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, শহরে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলেও অনুমোদনহীন গ্যারেজগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৈনিক আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলা সদরে প্রায় ৩ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য পিডিবির অনুমোদিত গ্যারেজ রয়েছে ১৫০টি। এসব গ্যারেজে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অটোরিকশা ও ২ হাজার ৭০০ ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। ফলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অটোরিকশা ও ২ হাজার ৩০০ ইজিবাইকের ব্যাটারি অনুমোদনহীন গ্যারেজে চার্জ হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সংবাদ প্রকাশের পর জলযোগ মিষ্টান্ন ভান্ডারে অভিযান হলেও শহরে প্রকাশ্যে চলা এসব অনুমোদনহীন গ্যারেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পিডিবির অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নাগরিকদের কেউ কেউ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জের সহসভাপতি মো. বাহার উদ্দিন বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন গ্যারেজে প্রকাশ্যে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে পিডিবি আইনগত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা কঠিন। বিদ্যুৎ চুরি রোধে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে তাই প্রশ্ন থেকেই যায়।
তবে পিডিবি বলছে, বিদ্যুৎ চুরি রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। হবিগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোর্শেদ বলেন, বিদ্যুৎ চুরি রোধে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৩৮ লাখ টাকার বিদ্যুৎ চুরি শনাক্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চুরি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



