ফ্ল্যাটে নিয়ে ক্যাশআউটের পর হত্যা, লেপ-তোশকে মুড়িয়ে ফেলে দেন রাস্তায়

গ্রেপ্তার তিনজন— সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তোশকে মোড়ানো বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাসদাইর এলাকার জিন্নাহর ছেলে জাকির (৫০), রানার ছেলে ওমর ফারুক (২২) এবং মৃত মজিদ মিয়ার ছেলে সোহেল (৪৯)। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি টিফিন বক্সও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড। লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকা থেকে মূল আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যার দায় স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জাকিরের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেন হেঁটে আসলে কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়।’
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা
মডেল থানার এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম (পিপিএম) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেপ্তার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মো. মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করতেন।





