টাকা গেল, তবু হলো না এমপিও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নোয়াখালীর হাতিয়ায় এমপিওভুক্তির আশ্বাসে এক শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। শিক্ষক লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের দাবি, এমপিওভুক্তির জন্য বিভিন্ন সময়ে তিনি টাকাগুলো দিয়েছেন আকরাম উদ্দিন রনিকে। পরে তার ফাইল বাতিল হয়ে যায়। টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
ঘটনাটি নন্দকুমার গার্লস হাই স্কুলের। লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস বিদ্যালয়টির গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক। তার ভাষ্য, ২০২০ সালের ১৪ জুন তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দেন। বিদ্যালয়টি জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে যোগদানের পর থেকে তিনি বেতন-ভাতা কিংবা এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন বিনা বেতনে শিক্ষকতা করার পর মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে— এমন আশ্বাসে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
লক্ষ্মণের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস ও রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাস তাকে আকরাম উদ্দিন রনির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে রনির বাসায় গেলে এমপিওভুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে ২০২৫ সালের ১ মে ১ লাখ এবং ৬ জুন ৪ লাখ টাকা দেন তিনি।
তিনি বললেন, ‘এমপিওভুক্তির ফাইল পাঠানো ও তদবিরের কথা বলে সাগর চন্দ্র দাস ও জগদীশ চন্দ্র দাস পৃথকভাবে আরও ৩ লাখ টাকা নেন। চাকরিতে নিয়োগের সময়ও প্রধান শিক্ষক ও সহযোগীরা তার কাছ থেকে নিয়েছিলেন ২ লাখ টাকা।’ সব মিলিয়ে এমপিওভুক্তি ও চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। টাকা দেওয়ার পরও এমপিওভুক্তি হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আকরাম উদ্দিন রনির ভাষ্য, এমপিওভুক্তির বিষয়ে তিনি শুরুতে কিছু জানতেন না। বিদ্যালয়ের লোকজন কাগজপত্র নিয়ে এসে ফাইলে স্বাক্ষর করলে বেতন-ভাতা চালু হবে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন খাতে খরচের কথাও বলা হয়।
তার দাবি, লক্ষ্মণ যে টাকা দিয়েছেন, তা তিনি প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাগ করে দিয়েছেন। তবে কে কত টাকা পেয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
প্রধান শিক্ষক সাগর চন্দ্র দাস অবশ্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, লক্ষ্মণকে এমপিওভুক্তির জন্য কোনো টাকা খরচ না করতে তিনি নিষেধ করেছিলেন। লক্ষ্মণ নিজের মতো করে এসব করেছেন। সভাপতি টাকা নেওয়ার সময় তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না।
আকরাম উদ্দিন রনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নন্দকুমার গার্লস হাই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন। তিনি হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
স্কুলের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু ছায়েদ এমরানের ভাষ্য, নিয়োগের সময় থেকে লক্ষ্মণকে তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। তার মতে, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক যে টাকা দিয়েছেন, তা ফেরতের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।



