বিরামপুরের শালবনে বিলুপ্তপ্রায় গিলা লতার খোঁজ

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বিরামপুরের জোতমাধব শালবনের পাশে একটি বাড়ির আঙিনায় দেখা মিলেছে বিলুপ্তপ্রায় গিলা লতা (গাছ)। প্রায় ১১ বছর আগে লাগানো একটি বীজ থেকে জন্ম নেওয়া এই লতা এখন ফলে ভরে উঠেছে। বিরল এই উদ্ভিদ দেখতে প্রতিদিন আশপাশের জেলা-উপজেলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, শালবনের পাশে স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দীনের বাড়ির আঙিনা থেকে চারটি মোটা কাষ্ঠল লতা মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে পাশের উঁচু শালগাছ বেয়ে ওপরে উঠে গেছে। সর্পিল আকৃতিতে উঠে যাওয়া লতাগুলো দূর থেকে সবুজ সিঁড়ির মতো মনে হয়। লতায় ঝুলছে বড় আকৃতির গিলা ফল। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেক শিশু লতার নিচে খেলায় মেতে উঠছে।
জালাল উদ্দীনের স্ত্রী তহমিনা খাতুন বললেন, প্রায় ১১ বছর আগে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য রংপুর থেকে গিলা বীজ এনে বাড়ির আঙিনায় লাগিয়েছিলাম। তিন বছর পর চারটি চারা গজায়। এর মধ্যে একটি স্ত্রী গাছ হিসেবে ফল ধারণ করে। আট বছর পর গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। এখন প্রতিবছর প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি বীজ সংগ্রহ করা যায়। এসব বীজ স্থানীয়ভাবে বিক্রি করা হয়।
তবে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গাছটি দেখতে আসায় উদ্বেগও বেড়েছে বলে জানান তহমিনা খাতুন। তার ভাষ্য, অনেক দর্শনার্থী লতায় উঠে ছবি তোলেন, কেউ কেউ ফল ছিঁড়ে নিয়ে যান। এতে গাছের ক্ষতি হচ্ছে। তাই এই বিরল উদ্ভিদ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয় গৃহিণী মালিহা মুসতারিন মুমু বললেন, তাদের এলাকায় গিলা ফল রান্না করে খাওয়ার প্রচলন আছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এটি শরীরের ব্যথা উপশমে উপকারী এটি।
উদ্ভিদবিদদের মতে, গিলা লতা শিম পরিবারের একটি বিরল আরোহী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Entada scandens (সমার্থক নাম (Entada phaseoloides)। পাতা, কাণ্ড, ছাল ও বীজে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ উদ্ভিদ এখন বিলুপ্তপ্রায়। তাই এর সংরক্ষণ, গবেষণা ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দিনাজপুর সামাজিক বনবিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বেগম বললেন, গিলা লতা একটি চিরসবুজ কাষ্ঠল আরোহী উদ্ভিদ। এটি সাধারণত বড় গাছকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে এবং ছায়াযুক্ত পরিবেশে ভালো জন্মায়। এর ফুল সাদা রঙের এবং প্রতিটি ফলে সাধারণত ১০ থেকে ১৫টি শক্ত, চ্যাপ্টা, গোলাকার বীজ থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, নেপাল ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে এ উদ্ভিদের বিস্তার রয়েছে। ঔষধি গুণের কারণে উদ্ভিদটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, জোতমাধব শালবনের পাশের এই গিলা লতা এখন বিরামপুরের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিরল এই উদ্ভিদ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




