ভাঙনের কাছ থেকেই বালু উত্তোলন, নদীর বালুতেই বাঁধ মেরামত

ছবি: আগামীর সময়
মানিকগঞ্জ সদরের পুটাইল ইউনিয়নের লেমুবাড়ি কালীগঙ্গা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় নদীরক্ষা বেড়িবাঁধের ভাঙনরোধে ফেলা হচ্ছে বালুভর্তি জিও। তবে ভাঙনের অদূরে (১০০ মিটার) ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরে ভাঙনরোধের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে। নদীর বালু নদীতেই ফেলা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লেমুবাড়ি এলাকায় নদীভাঙন রোধে আগে ব্লক ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছিল। তবে নদীর তীরের দুটি অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ব্লক সরে গেছে। সেই ভাঙন ঠেকাতে ভাঙনকবলিত স্থান থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার দূরে নদীর মধ্যে ট্রলারে বসানো ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু দিয়ে জিওব্যাগ ভর্তি করে আরেকটি ট্রলারের মাধ্যমে ভাঙনকবলিত স্থানে এনে ফেলা হচ্ছে ঘটনাস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট কামাল হাসানকে কাজ তদারকি করতে দেখা যায়। তার কিছু দূরে সাব-ঠিকাদারের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
ভাঙনকবলিত এলাকার এত কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদীর তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, যেখানে নদীভাঙন চলছে, তার কাছ থেকেই বালু তুলে আবার সেই স্থানেই মেরামত কাজ করা হচ্ছে। এতে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তারা এখান থেকে বালু না তুলে অন্য জায়গা থেকে বালু এনে ফেলতে পারত। কিন্তু তারা সেটা না করে ভাঙনের কাছে নদী থেকে বালু তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বললেন, নদীর পাড় ভেঙে গেলেও আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের কথা কে শুনবে, কার কাছে বলব? তারা প্রভাবশালী লোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানালেন, এত কাছ থেকে বালু তোলার কারণে আমাগো বাড়িঘর ও ফসলি জমি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে। যারা এই কাজ করছে তারা প্রভাবশালী। তাই প্রতিবাদ করার সাহস পাই না। বাঁধের পাড়ের আমাগো বাড়ি।
অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট কামাল হাসানের কথা, 'নদীর এক পাশে চর জেগে উঠলে অন্য পাশে ভাঙন দেখা দেয়। তাই নদীর স্বাভাবিক গতি ঠিক রাখতে ওই পাশের চরের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।'
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বললেন, 'ভাঙনের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে জিওব্যাগ ভরার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।'
সাব-ঠিকাদার ওবায়দুল রহমান মুঠোফোনে জানান, 'এখনই সেখান থেকে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া হবে। আর বালু উত্তোলন করা হবে না।'
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) আশরাফুল ইসলাম বললেন, 'ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ভাঙনকবলিত অংশের উজান বা ভাটি থেকে প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলন করে কাজ করতে বলা হয়েছে।'





