সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে।
আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫২ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৮০ জন, হবিগঞ্জে ১০৯, মৌলভীবাজারে ১১০ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৩ জন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী।
নতুন করে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সাত মাস বয়সী তাসপিয়া। অন্যজন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক বছর তিন মাস বয়সী হামিদুল। তাসপিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং হামিদুল শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫১ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চার এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০৯ জন চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৭ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮১, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৫, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুই এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট জেলায় ৪৫ জন, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২৭ জন।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





