বিনা নোটিশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফেনী শহরের ডাক্তার পাড়ার বাসিন্দা আসমা আক্তার। আজ রবিবার বেলা তিনটার দিকে রান্না ঘরের গ্যাস চুলা জ্বালাতে গিয়ে দেখেন গ্যাস নেই। তিনি জানান, হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে গ্যাস সরবরাহ। তাই বিপাকে পড়েছেন তিনি।
ফেনী ট্রাঙ্ক রোডের নবী হোটেলের অন্যতম পরিচালক মেজবাহ কামাল বললেন, ‘হোটেলে যা খাবার ছিল কমপক্ষে রাত ১১টা পর্যন্ত বিক্রি করা যেত। কিন্তু হঠাৎ করে ক্রেতা এসে সব খাবার নিয়ে যান।’ বিনা নোটিশে গ্যাস বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান ক্রেতারা।
শহরের বিভিন্ন সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে রবিবার বিকালের পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শত শত যাত্রী গাড়ির অপেক্ষায় থাকলেও কোন গাড়ি ছিল না। তাই অনেকেই পায়ে হেঁটে অথবা বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাসা- বাড়িতে পৌঁছে।
সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ধূমসাদ্দা এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক নুর মোহাম্মদ জানান, সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেই। তাই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে বাড়ি চলে আসি। তিনি বলেন, অনেকেই গাড়ি বন্ধ করে রেখেছে।
গ্রাহকরা জানান, ফেনী শহরের মাষ্টার পাড়া, সহদেবপুর, পেট্রোবাংলা, তুলা বাড়িয়া, চেওরিয়া, কালিপাল, ধর্মপুর ইউনিয়নের আমিন বাজার, বরৈয়া, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা, জায়লসকরের মোল্লা ঘাটা, বারাহিগুনীসহ বিশাল এলাকাজুড়ে গ্যাসের সঙ্কট চলছে বহুদিন ধরে। সম্প্রতি এ সঙ্কট আরও বেড়ে গেছে। তাদের মতে গত দুই মাসে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে সরবরাহ বন্ধ করলেও গত দুই দিনে কয়েক দফা বিনা নোটিশে গ্যাস বন্ধ করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
ফেনী স্টার লাইন সিএনজি স্টেশনের পরিচালক মাইন উদ্দিন বলেছেন, ‘গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। তাই গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ দেয়া যাচ্ছে না।’
এ দিকে বিনা নোটিশে গ্যাস বন্ধ বিষয়ে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের ব্যবস্থাপক কিরণ চন্দ্র রায় বললেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবু আমরা চেষ্টা করছি সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য।’
বাখরাবাদ গ্যাস সিষ্টেমস লিমিটেডের মহা ব্যবস্থাপক জাহিদ রেজা গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীতে গ্যাস সঙ্কট বেড়ে গেছে। তাই সেখানে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে কয়েক জেলায় সরবরাহ কমে গেছে। এটা সহসা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।







