মেহেদুলের বাসক চাষে পাল্টে গেছে ১৫ গ্রাম

অভাবের সংসারে ছোটবেলা থেকেই কাজ করতে হয়েছে মেহেদুল ইসলামকে। চার ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। সংসার চালাতে কাজ করেছেন অন্যের চালকলে। সেই মেহেদুলের জীবনে একসময় আশার আলো হয়ে আসে বাসকপাতা। বাসকসহ বিভিন্ন ঔষধি গাছের চাষ করে এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা। তার দেখানো পথে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদসহ আশপাশের অন্তত ১৫ গ্রামের ৩০০ পরিবার যুক্ত হয়েছে ঔষধি গাছ চাষে। একসময় অব্যবহৃত পড়ে থাকা সড়কের পাশের জমি, বাড়ির আঙিনা আর ঝোপঝাড় এখন তাদের বাড়তি আয়ের উৎস।
পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মেহেদুলের বয়স এখন ৪৩ বছর। অভাবের মধ্যেও স্বপ্ন দেখতেন স্বাবলম্বী হওয়ার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ আসে ২০১৩ সালে। একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীর সহায়তায় বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারে ঔষধি গাছ চাষের ওপর তিন দিনের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। প্রশিক্ষণে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শুরু করেন বাসক চাষ।
ঔষধি গাছের প্রসার ঘটলেও উৎপাদিত পাতা কোথায় বিক্রি করবেন, তা নিয়ে শুরুতে কৃষকদের অনিশ্চয়তা ছিল। সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন মেহেদুল। ২০০৬ সালে তিনি ‘এসো গড়ি সমাজ বহুমুখী সমবায় সমিতি’ গড়ে তোলেন। ১৩ সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫০০। সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সংগঠনটি আত্মকর্মসংস্থান ও ঔষধি গাছ চাষের প্রশিক্ষণেও ভূমিকা রাখছে।
মেহেদুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে একমি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটি এলাকায় এসে কৃষকদের উৎপাদিত ঔষধি গাছের পাতা কেনে। এজন্য একটি সংগ্রহ ও বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। কৃষকরা সেখানে পাতা জমা দেন। পরে কোম্পানির গাড়ি এসে নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী দাম দিয়ে পাতা নিয়ে যায়।
ভেষজ উদ্ভিদকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক সাইফুল আলম। তার মতে, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি এসে ভালো দামে পাতা কিনে নেওয়ায় জাহাঙ্গীরাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ঔষধি গাছ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।



