রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত নান্দাইলের মামুন

নান্দাইলের যুবক মামুন মিয়া
রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের চাকরির প্রলোভনে কাজে গিয়ে ময়মনসিংহের নান্দাইলের যুবক মামুন মিয়া (২৫) ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। নিহত মামুন খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার মাস আগে 'জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' নামক একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়া যান মামুন। তার সঙ্গে ৩০ জনের একটি টিম ছিল। সেখানে পৌঁছানোর মাত্র ৪ দিন পর এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট পাচারকারী চক্রটি তাকেসহ পুরো টিমকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী সময়ে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসমরে মোতায়েন করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মামুনের সঙ্গে থাকা সহকর্মী ঝিনাদহের রাজন মিয়া জানান, দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন প্রাণ হারান। রাজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশে আসেন।
স্বজনদের অভিযোগ, ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
বুধবার দুপুরে নিহত মামুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে ভাঙা ঘরের সামনে বসে মা রোকেয়া খাতুন ও স্ত্রী মহিমা আক্তার কান্না করছেন। সংবাদকর্মীর খবর পেয়ে আশপাশের মানুষজন এসে ভিড় করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, ছেলেটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। লোভে পড়ে রাশিয়া গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক।
নিহতের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, তার স্বামীর সঙ্গে গত ২৬ আগস্ট শেষ কথা হয়েছিল। তখন মামুন জানিয়েছিলেন ৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে ওয়াই-ফাই সংযোগ করে কথা বলতে এসেছেন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দুই বাচ্চা নিয়ে এহন আমি কিভাবে সংসার চালাব? মরদেহটা কিভাবে দেশে আনব তা-ও তো জানি না।’ সরকারের কাছে মরদেহ আনার দাবিও জানান তিনি।
নিহতের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য ৪ মাস আগে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ ও ধার করে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখনো কারও টাকা শোধ করতে পারিনি। সমিতির লোকজন এসে ঘুরে যাচ্ছে। একমাত্র সন্তানের এমন করুণ পরিণতি হবে ভাবতেও পারি না। দুইডা নাতিকে কিভাবে বড় করব তা-ও বুঝতেছি না।’
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ দিলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’






