চকরিয়া
ছড়াখালে ঠিকাদারের অপরিকল্পিত বাঁধ, পানিবন্দি ৭০০ পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
মাতারবাড়ী পোর্ট এক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারি কোম্পানির অপরিকল্পিত বাঁধ দেওয়ার কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় দুটি ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তি পড়েছেন। গত কয়েকদিনর ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ও চিরিংগা ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে অন্তত ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এতে অনেকের বাড়ি প্লাবিত হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে বড় বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। পরে স্থানীয় নারী-পুরুষ গিয়ে কয়েকটি বাঁধ কেটে দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধ কেটে দিলেও স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করতে পারছে না।
জানা গেছে, মহেশখালীর মাতারবাড়ি থেকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাঁসেরদিঘি পর্যন্ত ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ যৌথভাবে পরিচালনা করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান টোকিউ কন্সট্র্যাকশন লিমিটেড ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। কিছুদিন আগে সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না, বৃষ্টির পানির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ি ঢলের পানি। এতে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে উঠেছে পানি। সর্বত্র কর্দমাক্ত। ১৫-২০ জন নারী-পুরুষ কোদাল নিয়ে বাঁধ কাটছেন। তবুও পানি নামছে না। পানি জমে কারো বাড়ির উঠোন, কারো বারান্দায় ও রান্নাঘরে পানি উঠেছে। এ দৃশ্য দেখা দিয়েছে, ফাঁসিয়াখালীর ছড়ারকুল, ভাঙারপাড়া ও চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা ও চরপাড়ার ছয়টি গ্রামে।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাঁসের দিঘির ভাঙারপাড়ার আব্দুল আলীম বলেছেন, ‘সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলে ঠিকাদারি কোম্পানি একটি ছড়াখাল ভরাট করে একটি অস্থায়ী বাঁধ দেন। গত রবিবার ও সোমবার এ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের পানি জমে যায়। এতে আমার গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। এতে অনেক পরিবার রান্নাও করতে পারছে না। মূলত অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।’
চিরিংগা ইউনিয়নের পূর্ব পালাকাটা গ্রামের রশীদুল আমিন জানালেন, ‘ছড়াখাল দখল করে যখন ঠিকাদারি কোম্পানি বাঁধ দিচ্ছিল তখনই আমরা বলেছিলাম এভাবে ছড়াখাল ভরাট করলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে যাবে। তখন তারা কোনো কথা শুনেনি। বরং আমাদের বলেছে, আমাদের অধিগ্রহণকৃত জমি আমরা কাজ করব।’
ছড়ারকুল গ্রামের জমির উদ্দিন বলেছেন, ‘ঠিকাদারি কোম্পানি অনেক প্রভাবশালী। স্থানীয়দের কোনো কথায় শুনে না। বাঁধ দেওয়ার সময় স্থানীয়দের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এখন আমাদের বাড়িঘর পানি জমে আছে। এ বছর বর্ষাকালে আমাদের ভোগান্তিতে কাটাতে হবে।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি কোম্পানি ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, ‘বাঁধ ও মাটির কাজ আমাদের আলাদা আরেকটি বিভাগ দেখেন। ভারী বৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছে ঠিক, সমাধান করার কাজ চলছে।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বললেন, ‘ফাঁসিয়াখালী ও চিরিংগা ইউনিয়নে পানি জমে থাকার বিষয়ে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’





