শেখ মুজিবের ‘মরণোত্তর বিচার’ চাইছেন এমপি কয়ছর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলের এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। ছবি: আগামীর সময়
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকেও দায়ী করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। এ কারণে শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচারও চেয়েছেন তিনি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ঝিলমিল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ প্রসঙ্গ তোলেন কেন্দ্রীয় নিবাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষকে উত্তাল করেছিল এক নেতা। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য বাংলাদেশের মানুষ যখন প্রস্তুত ছিল, তখন সে বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছিল।
‘তখন বাংলাদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেদিন যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন, তার জন্য দায়ী শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমানের মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত।’
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর ঢাকার ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। ১৯৭১ সলের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন তিনি।
অপারেশন সানসেট
০২ নভেম্বর ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে কয়ছর আহমদ বলেন, ‘একজন সৈনিক হয়েও অসীম সাহস নিয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শুধু ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বাংলাদেশকে লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছেন।’
বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে ও পরে নানা ষড়যন্ত্র নিয়ে বিএনপি এই সংসদ সদস্য বলেন, যখনই দেশবিরোধী চক্রান্ত হয়েছে, তখনই সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান, বিএনপি ও জিয়া পরিবার দেশের হাল ধরেছে।
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কয়ছর বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মানুষ জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিল। এ কারণেই সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে মুক্ত করেছিল।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কয়ছর ছিলেন প্রধান অতিথি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, ফারুক আহমেদ ও নূর আলী, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এ টি এম হেলাল এবং জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন।
উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক রওশন খান সাগর ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম নাঈম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।




