আট মাস পর স্কুলে ফিরলেন সেই শিক্ষক

ভালুকায় মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ময়মনসিংহের ভালুকায় মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুসলিমা খাতুন আট মাস দুই দিন পর কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে দুই মাস তিনি চিকিৎসাজনিত ছুটিতে ছিলেন। এরপর ছয় মাস বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুপস্থিত থাকাকালে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হলেও তিনি এর কোনো জবাব দেননি।
চলতি মাসের ১০ তারিখে বিদ্যালয়ে যোগ দেন মুসলিমা খাতুন। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়ে তদন্তের পর বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, বিনা অনুমতিতে যে কয়দিন তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন, সেই সময়ের বেতন পাবেন না। চাকরি শেষে পেনশন সুবিধাও পাবেন না।
বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুসলিমা খাতুন মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। তিনি মেদুয়ারী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রুবেল মিয়া সাইপ্রাসপ্রবাসী। তাদের একমাত্র সন্তানও সাইপ্রাসে পড়াশোনা করে। স্বামী-সন্তান প্রবাসে থাকায় মুসলিমা একাধিকবার সাইপ্রাস ভ্রমণ করেছেন বলে বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত ৭ ডিসেম্বর থেকে দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নেন মুসলিমা খাতুন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি আরও ছয় মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ সময় তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নোটিসের জবাব দেননি বলে জানিয়েছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
গত সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মুসলিমা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় শেরপুরে বাবার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে চিকিৎসকের নাম জানতে চাইলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
মুসলিমা খাতুন আরও জানান, চিকিৎসাসংক্রান্ত সব তথ্য শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। স্বামী ও সন্তানের কাছে সাইপ্রাস যাওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর তার যোগদানের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুল হক কাজল জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মুসলিমা খাতুনের যোগদানপত্র নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাজনিত দুই মাসের ছুটি ও পরবর্তী সময়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতিসহ মোট আট মাস দুই দিন পর তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।
এর আগে ২০২০ সালেও টানা আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে মুসলিমা খাতুনের বিরুদ্ধে। ওই সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে বেতন-ভাতা ও বোনাস উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৩ জুন অনলাইন সংবাদমাধ্যম আগামীর সময়-এ ‘ছয় মাস ধরে অনুপস্থিত শিক্ষিকা, ব্যাহত পাঠদান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বর্তমানে মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।







