খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণ
- চিঠি চালাচালিতে দুই বছর

রূপগঞ্জের মায়ারবাড়ি-ডাঙ্গা লিংক রোড
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মায়ারবাড়ি-ডাঙ্গা লিংক রোডের নির্মাণকাজ শেষপর্যায়ে। ২৪ ফুট প্রশস্ত আরসিসি সড়কটি চালু হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস এবং গাজীপুর-নরসিংদীমুখী যাতায়াতে নতুন গতি আসার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সড়কের মাঝখান ও দুপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ৭২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফলে উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা থাকা এ সড়কই এখন পরিণত হয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ পথে। স্থানীয়দের ভাষায়, খুঁটিগুলোই এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে।
তাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে প্রায়ই যানবাহন বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। বাজার-সংলগ্ন অংশে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। বড় ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহন সড়ক ব্যবহার করতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ।
সড়ক ও জনপথের (সওজ) তথ্য বলছে, রূপগঞ্জের মায়ারবাড়ি থেকে ডাঙ্গা পর্যন্ত লিংক রোড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহারকারীদের বিকল্প সংযোগ নিশ্চিত করতে। সড়কটি গাজীপুর ও নরসিংদীমুখী যান চলাচলেরও গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত। ২৪ ফুট প্রশস্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় সাগর ইনফো বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি খুঁটি অপসারণের বিষয়টি শুরু থেকেই ঝুলে ছিল। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৭২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ও নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজারের কাছে আবেদন করা হয়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ডিমান্ড লেটারও পাঠায়।
কিন্তু চিঠি চালাচালি হলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাগজপত্রের আদান-প্রদান চললেও শুরু হয়নি খুঁটি সরানোর কাজ। সড়কের নির্মাণকাজও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। নতুন সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়ে গেছে আগের অবস্থানেই।
ট্রাকচালক শামসুল মিয়ার ভাষায়, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সড়কটি। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে কাজ শেষ করার কারণে ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। এতে পণ্য পরিবহনে বাড়ছে ভোগান্তি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্ত করতে জমি নেওয়া হলেও এলাকার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে আপত্তি করেনি। কিন্তু সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে নির্মাণ শেষ করায় মিলছে না প্রকল্পটির কাঙ্ক্ষিত সুফল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মনে করেন, সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তার দাবি, খুঁটি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং এজন্য অনুমোদিত হয়েছে বরাদ্দও। শিগগিরই সেই অর্থ দেওয়া হবে পল্লী বিদ্যুৎকে।
তার ভাষ্য, জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চাইলে আগেই সরিয়ে দিতে পারত খুঁটি।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম না মেনেই সড়ক নির্মাণ করেছে সওজ। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ দাবি করেন, সড়ক নির্মাণের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জামানত জমা দিয়ে খুঁটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেই প্রক্রিয়া শেষ না করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়েছে। তারপরও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দ অনুমোদনের পর নেওয়া হয়েছে খুঁটি অপসারণের উদ্যোগ।
তারা আশা, আগামী দুই মাসের মধ্যেই শুরু হবে
স্থানান্তরের কাজ।






