সালিশে এমপি হানজালার উত্তেজিত আচরণের ভিডিও ভাইরাল

সংগৃহীত ছবি
আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। এ সময় হুট করেই টেবিল চাপড়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উচ্চস্বরে ধমক দেন তিনি। ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তার এই উত্তেজিত আচরণ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার তারামিয়া নামের এক বিএনপি কর্মীকে নিয়ে করা হয় একটি সালিশ বৈঠক। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য চলাকালে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে টেবিল চাপড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এমপি হানজালা।
ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ এরপর টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘এই মিয়া, চুপ করেন। একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আরও সংযত আচরণ প্রত্যাশা করে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। অন্যদিকে, কেউ কেউ দাবি করেছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
সালিশে উপস্থিত ভুক্তভোগী তারামিয়া জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। বিচার চলাকালে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, জনসম্মুখের সালিশে সব পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকা উচিত এবং বিচারকের দায়িত্ব ধৈর্যের সঙ্গে সবার কথা শোনা।
স্থানীয়রা জানান, সালিশ চলাকালে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিং সেখানেই শেষ হয়ে যায়। ফলে ঘটনার আগে বা পরে কী ঘটেছিল, তা ভিডিও থেকে স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা জানান, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। তার ভাষ্য, স্থানীয়রা তাকে ছাড়া সালিশে বসতে রাজি ছিলেন না। পরে সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধমক দেন তিনি।
‘সালিশের সময় উভয় পক্ষই কথা বলছিল এবং তর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচারকাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টির সমাধান হয়েছে।’




