কর্মচারী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় গাংনী সাবরেজিস্ট্রি অফিস বন্ধ

সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীকে মারধর করছেন পৌর বিএনপি নেতা— সংগৃহীত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী আযাদ আলিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এর জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সেবাগ্রহিতারা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
সেবাগ্রহিতারা জানান, গ্রাম থেকে এসে জানতে পারেন রেজিস্ট্রি অফিস বন্ধ। কেউ এসেছেন জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে। কেউ দৈনন্দিন কাজে না গিয়ে এখানে এসেছেন।
জানা যায়, দলিলপ্রতি রেজিস্ট্রি করতে ফাইলিংয়ের জন্য ১ হাজার ও বিবিধ খরচ ২০০ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করেন অফিস সহায়ক আযাদ। এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় অফিস থেকে তাকে টেনেহেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে মারধর করা হয়। এতে আযাদের বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু আযাদকে উদ্ধার করেন।
ইমন হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘রেজিস্ট্রি করতে ফাইলিং ও বিবিধ খরচের নামে কেন দলিলপ্রতি অবৈধ টাকা নেওয়া হয়, এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি আযাদ। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আযাদ।
উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মাহফুজ রানার ভাষ্য, একজন কর্মচারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশে অফিস বন্ধ রয়েছে। আযাদ যদি অনিয়ম করে থাকেন, এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আছে। বহিরাগতরা অফিসে ঢুকে একজন অফিস সহায়ককে কেন লাঞ্ছিত করবে?
এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেছেন, ‘যারা এ কাজ করেছে, তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে, যা বিএনপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তবে যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে, তার জন্য আইন আছে, অথরিটি আছে। তারা ব্যবস্থা নেবে। মব সৃষ্টি করে সরকারি কোনো কর্মচারীকে টেনেহেঁচড়ে বের করে মানুষের সামনে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে বলতে পারবেন নেতারা, জানান তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বললেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেই হোক তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা উচিত নয়। বিএনপি এ ধরনের কাজ সমর্থন করে না। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে ইমনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর ভাষ্য, এ বিষয়ে আযাদ অভিযোগ জানিয়েছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন।






