শরণখোলা
সুন্দরবনে ফের সাপের ছোবল, সাপ ধরে ফেললেন জেলে

ছবি: আগামীর সময়
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও বিষধর সাপের ছোবলের শিকার হয়েছেন আ. বাতেন হাওলাদার (৫৮) নামের এক জেলে। সাপটি তার পিঠের ডান পাশে ছোবল দিয়ে ঝুলে থাকলে বাম হাত দিয়ে সেটি ধরে ফেলেন তিনি। পরে সাপের বিষক্রিয়ায় তার হাত অবশ হয়ে আসে। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা স্পিডবোটে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের হরিণটানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর একই এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলের শিকার হয়েছিলেন তিনি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আবারও সাপের কামড় খেলেন এই জেলে।
আ. বাতেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আ. গণি হাওলাদারের ছেলে।
আহত জেলে আ. বাতেন হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শরণখোলা স্টেশন থেকে পাস নিয়ে ছয় জেলে সুন্দরবনের হরিণটানা খালে মাছ ধরতে যান। বিকেল ৩টার দিকে খালের চরে চরগড়া জাল পাতছিলেন তিনি। এ সময় গাছে থাকা একটি সাপ তার পিঠের ডান পাশে ছোবল দেয়। সাপটি দাঁত বসিয়ে পিঠে ঝুলে থাকলে তিনি বাম হাত দিয়ে সেটিকে ধরে ফেলেন।
তিনি আরও জানান, সাপের ছোবল খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হাত অবশ হয়ে আসে। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা মুঠোফোনে বন বিভাগের স্টেশন অফিসে খবর দেন। খবর পেয়ে বনরক্ষীরা স্পিডবোট পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সাপের কামড়ের খবর পেয়ে দ্রুত স্পিডবোট পাঠিয়ে আহত জেলেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দ্রুত উদ্ধার ও সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় তাকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোরশেদ আক্তার সুমী বলেন, ‘সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার ডান হাত শক্ত হয়ে গেছে। এর আগেও তিনি সাপের ছোবল খেয়েছিলেন। তখন তার শরীরে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ঝুঁকিমুক্ত আছেন।’




