জরিমানা হয়েছে একাধিকবার, তবু অনিয়মেই চলছে রহমান পাম্প

বরগুনার আমতলীর রহমান ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা। ছবি: আগামীর সময়
একবার নয়, বারবার করা হয়েছে জরিমানা। থামেনি অভিযোগও। এবারও জ্বালানি তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বরগুনার আমতলীর রহমান ফিলিং স্টেশনকে। এতবার জরিমানার পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না অনিয়ম, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ভোক্তারা।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া এলাকায় মেসার্স রহমান পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কনু মিয়াকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জ্বালানি তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রহমানিয়া ফিলিং স্টেশনে তেল কম দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। গত দুই বছরেও একই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও অনিয়ম বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় ভোক্তা রাশিমুল হক রিমন ও আল আমিন বাবুসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, বারবার একই অভিযোগে জরিমানা হলেও একই ধরনের অভিযোগ আবারও ওঠায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একজন ভোক্তা এক লিটার জ্বালানি কিনে নির্ধারিত পরিমাণ না পেলে সরাসরি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই অভিযোগ বারবার প্রমাণিত হলে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, শুধু জরিমানা আদায় করে অভিযান শেষ না করে জ্বালানি তেলের পরিমাপযন্ত্র নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করতে হবে। একই অনিয়ম আবার হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল পরিমাপে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই তেলের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




