রামুতে বন্যার পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ

রামুতে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন— সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামুর বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি অবনতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, কৃষিজমি প্লাবিত এবং অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি। বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করছে।
বন্যার কারণে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং টয়লেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার বন্যার পানি পুরোপুরি না নামলেও নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বললেন, ‘আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে খুব বেশি অসুবিধায় পড়েছি। সেখানে খাবারের সমস্যা, থাকার সমস্যা এবং টয়লেটের সমস্যাও ছিল। তাই বাধ্য হয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসেছি।’
দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বললেন, ‘আমাদের পরিবার দুই দিন আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে টয়লেট ব্যবহারে। একটি টয়লেট ব্যবহার করতে দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হতো। পরে বন্যার পানি কিছুটা কমে গেলে পরিবারকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি। কষ্ট হলেও নিজের বাড়িতে থাকাই আমাদের কাছে বেশি স্বস্তির।’
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় এখনো বন্যার প্রভাব রয়ে গেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণের কাজ চলছে।
তিনি বললেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে গর্জনিয়া ইউনিয়নের দুচরি খাল ও বাঁকখালী নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি পরিষ্কার, নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। কৃষকরাও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।





